
খুলনার সময়ের খবর ডেস্ক :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কুড়িগ্রামকে উত্তরবঙ্গের কৃষি-শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জেলার দীর্ঘদিনের তিনটি বড় সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান সীমান্তে নিহত ফেলানী খাতুনের প্রসঙ্গ টেনে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “ফেলানীর বাবা-মায়ের চোখের পানি আমি দেখেছি। সেটি শুধু পানি ছিল না, সেটি ছিল রক্তের অশ্রু। আমরা চাই, আর কোনো ফেলানীকে কাটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকতে না হয়।” তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা প্রতিবেশীকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই, কিন্তু কোনো ধরনের আধিপত্য বা গোলামি মেনে নেওয়া হবে না। বন্ধু থাকবে, প্রভু থাকবে না। তিনি আরও বলেন, দেশকে বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। কুড়িগ্রামবাসীর উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, “কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের তিনটি বড় দুঃখ রয়েছে। আমরা ইনশাআল্লাহ সেগুলো দূর করব। নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদী শাসনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানো হবে।” তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন। সাম্প্রতিক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “মিথ্যা অপপ্রচার করে সত্যকে আড়াল করা যায় না। সত্য একসময় প্রকাশ হবেই। এ সময় তিনি বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করে বলেন, “আবরার ফাহাদ প্রথম শাহাদাত বরণ করেছিলেন। তার পথ ধরে আরও অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আমরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বেঈমানি করব না এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। সভায় তিনি কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে জোট মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীক তুলে দিয়ে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে স্লোগান দিয়ে গণভোটের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “হ্যাঁ ভোটে স্বাধীনতা, না ভোটে গোলামি। ১১ দলীয় জোটের এই নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেনসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
